চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক মামলার এজাহার, চার্জশিট, সিসিটিভি ফুটেজ ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে এই আদেশ দেন। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মামলা স্বাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন। মামলার মোট ৩৯ জন আসামির মধ্যে ২৩ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। আজ চিন্ময় দাসসহ এই ২৩ জন হাজতি আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি ১৬ জন আসামি এখনো পলাতক।আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/১০৯ ধারায় এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪৭/৪৪৮/৪৪৯/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেছেন। এসময় চিন্ময় দাস নিজেই প্রায় ২৫ মিনিট তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
এছাড়া পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্রনাথ ও চিন্ময় দাসের পক্ষে অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বক্তব্য উপস্থাপন করেন।বিচার প্রক্রিয়া শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে যখন আদালত কক্ষ থেকে বের করে আনা হয়, তখন আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীদের একটি বড় অংশ তাকে লক্ষ্য করে ‘খুনী খুনী’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে কড়া পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল, আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা, যা দেশের জনগণ, আইনজীবী সমাজ, বিচারপ্রার্থী মানুষ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, উপস্থাপিত প্রমাণাদির আলোকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন নিহত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা। ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সরকারের কাছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই। আমরা কেবল ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছি।
মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব। কোতোয়ালি মোড় থেকে আদালতের মেইন গেট এবং সিনেমা প্যালেস মোড় পর্যন্ত সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কেবল পরিচয়পত্র যাচাই সাপেক্ষে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদালত চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চিন্ময় দাসের জামিন না মঞ্জুর হলে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রিজনভ্যান ঘিরে তার অনুসারীরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় আইনজীবী আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।